অবৈধ অভিবাসন বেড়ে যাওয়ায় কিছু এলাকায় বাড়িভাড়া ও বাড়ির দাম বেড়েছে, ডালাস ফেডের গবেষণা

যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসন দ্রুত বেড়ে যাওয়ার ফলে যেসব এলাকায় নতুন অভিবাসীর সংখ্যা বেশি ছিল, সেসব এলাকায় বাড়িভাড়া ও বাড়ির দামও বেড়েছে বলে নতুন একটি গবেষণায় দাবি করা হয়েছে। ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব ডালাসের সঙ্গে যুক্ত দুই অর্থনীতিবিদের গবেষণায় এই সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

Jul 13, 2026 - 17:05
অবৈধ অভিবাসন বেড়ে যাওয়ায় কিছু এলাকায় বাড়িভাড়া ও বাড়ির দাম বেড়েছে, ডালাস ফেডের গবেষণা
এআই জেনারেটেড

যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসন দ্রুত বেড়ে যাওয়ার ফলে যেসব এলাকায় নতুন অভিবাসীর সংখ্যা বেশি ছিল, সেসব এলাকায় বাড়িভাড়া ও বাড়ির দামও বেড়েছে বলে নতুন একটি গবেষণায় দাবি করা হয়েছে। ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব ডালাসের সঙ্গে যুক্ত দুই অর্থনীতিবিদের গবেষণায় এই সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

গবেষণাটি করেছেন অর্থনীতিবিদ ড্যানিয়েল জে. উইলসন ও শিয়াওছিং ঝোউ। ২০২১ সালের শুরু থেকে ২০২৪ সালের শুরুর দিক পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসনের বড় ধরনের বৃদ্ধি এবং এর ফলে স্থানীয় শ্রম ও আবাসন বাজারে কী পরিবর্তন হয়েছে, তা তাঁরা বিশ্লেষণ করেছেন।

গবেষকদের হিসাবে, ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে অবৈধভাবে বা আনুষ্ঠানিক অভিবাসন অনুমোদন ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা মানুষের কারণে দেশটির জনসংখ্যায় প্রায় ৭০ লাখ মানুষ যুক্ত হয়েছিল। তবে ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে এই প্রবাহ দ্রুত কমতে শুরু করে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে নতুন করে প্রবেশের তুলনায় দেশ ছেড়ে যাওয়া বা বহিষ্কৃত মানুষের সংখ্যা বেশি হয়ে যায়।

গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব স্থানীয় এলাকায় অবৈধ অভিবাসী শ্রমিকের সংখ্যা বেড়েছে, সেখানে কর্মসংস্থানও প্রায় একই অনুপাতে বেড়েছে। তবে স্থানীয় শ্রমিকদের সামগ্রিক মজুরি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার প্রমাণ গবেষকেরা পাননি।

অন্যদিকে আবাসন বাজারে ভিন্ন প্রভাব দেখা গেছে। নতুন মানুষের আগমনে বাড়ি ও ভাড়া বাসার চাহিদা বাড়লেও স্বল্প সময়ে সেই অনুপাতে নতুন বাড়ি নির্মাণ হয়নি। ফলে অভিবাসীর প্রবাহ বেশি থাকা এলাকাগুলোতে বাড়িভাড়া এবং বাড়ির বিক্রয়মূল্য বেড়েছে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।

গবেষকেরা বলেছেন, এখানে মূল বিষয়টি হলো চাহিদা ও সরবরাহের ব্যবধান। কোনো এলাকায় অল্প সময়ের মধ্যে অনেক নতুন মানুষ বসবাস শুরু করলে বাসস্থানের চাহিদা দ্রুত বেড়ে যায়। কিন্তু নতুন অ্যাপার্টমেন্ট বা বাড়ি নির্মাণ, অনুমোদন পাওয়া এবং বসবাসের উপযোগী হতে দীর্ঘ সময় লাগে। ফলে বাজারে বাসার সংখ্যা একই থাকলেও ভাড়াটে ও ক্রেতার সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় দাম বাড়তে পারে।

গবেষণায় অভিবাসীদের কারণে সব জায়গায় সমান হারে বাড়িভাড়া বেড়েছে, এমন দাবি করা হয়নি। স্থানীয়ভাবে কত মানুষ এসেছেন, আগে থেকে কত বাসা খালি ছিল, নতুন বাড়ি নির্মাণ কতটা সহজ এবং স্থানীয় আবাসন নীতির মতো বিষয়ের ওপর প্রভাবের মাত্রা ভিন্ন হতে পারে।

এ ছাড়া গবেষণাটি শুধু আবাসন ব্যয় বৃদ্ধির কথাই বলেনি। গবেষকদের মতে, নতুন অভিবাসী শ্রমিকেরা স্থানীয় কর্মসংস্থান বাড়িয়েছেন এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে শ্রমিকের চাহিদা পূরণে সহায়তা করেছেন। একই সঙ্গে তাঁদের উপস্থিতির কারণে স্থানীয় মজুরি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার প্রমাণও পাওয়া যায়নি।

তবে গবেষণায় মাথাপিছু শ্রম আয় কমে যাওয়ার একটি সম্পর্ক পাওয়া গেছে। গবেষকেরা বলেছেন, এর একটি সম্ভাব্য কারণ হলো নতুন শ্রমিকদের একটি বড় অংশ তুলনামূলক কম মজুরির পেশায় কাজ করেছেন। এতে মোট কর্মসংস্থান বাড়লেও সব শ্রমিকের গড় আয় হিসাব করলে তা কমে যেতে পারে।

গবেষণাপত্রটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ের একটি কার্যপত্র। পেশাদার গবেষক ও অর্থনীতিবিদদের মতামতের জন্য এটি প্রকাশ করা হয়েছে। এতে প্রকাশিত মতামত লেখকদের নিজস্ব এবং তা ডালাস ফেড বা পুরো ফেডারেল রিজার্ভ ব্যবস্থার আনুষ্ঠানিক অবস্থান নয়।

তাই গবেষণার ফলাফলকে যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন সংকটের একমাত্র ব্যাখ্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বাড়ির দাম ও ভাড়া বৃদ্ধির পেছনে উচ্চ সুদের হার, নির্মাণ ব্যয়, জমির দাম, স্থানীয় নির্মাণ বিধি, জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং পর্যাপ্ত নতুন বাসা তৈরি না হওয়ার মতো আরও অনেক কারণ রয়েছে।

তারপরও গবেষণাটি দেখায়, অল্প সময়ের মধ্যে কোনো এলাকায় জনসংখ্যা দ্রুত বেড়ে গেলে এবং নতুন আবাসন তৈরি না হলে বাড়িভাড়া ও বাড়ির দাম বাড়ার চাপ তৈরি হতে পারে। অভিবাসননীতি নিয়ে চলমান রাজনৈতিক বিতর্কের পাশাপাশি স্থানীয় আবাসন সরবরাহ বাড়ানোর বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

সূত্র: ডালাস এক্সপ্রেস ও ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব ডালাস