কলোরাডোর দাবানল নেভানোর সময় বিধ্বস্ত বিমান, পাইলট নিহত

যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো অঙ্গরাজ্যে ভয়াবহ দাবানল নিয়ন্ত্রণে কাজ করার সময় একটি অগ্নিনির্বাপণ বিমান জলাধারে বিধ্বস্ত হয়ে পাইলট নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকারী দল কয়েক ঘণ্টার অভিযানে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

Jul 13, 2026 - 19:02
কলোরাডোর দাবানল নেভানোর সময় বিধ্বস্ত বিমান, পাইলট নিহত

যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো অঙ্গরাজ্যে ভয়াবহ দাবানল নিয়ন্ত্রণে কাজ করার সময় একটি অগ্নিনির্বাপণ বিমান জলাধারে বিধ্বস্ত হয়ে পাইলট নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকারী দল কয়েক ঘণ্টার অভিযানে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

রোববার বিকেলে গোল্ড মাউন্টেন দাবানল নিয়ন্ত্রণে অংশ নেওয়া একটি কেমান কে-১২০০ অগ্নিনির্বাপণ হেলিকপ্টার সিলভার জ্যাক রিজার্ভয়ারে বিধ্বস্ত হয়। গুনিসন কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানায়, স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ১৭ মিনিটের দিকে দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়। পরে ডুবুরি দল জলাধার থেকে পাইলটের মরদেহ উদ্ধার করে।

নিহত পাইলটের নাম নিকোলাস ডেল। তাঁর বয়স ৫৬ বছর। তিনি কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার সুক শহরের বাসিন্দা ছিলেন। হেলিকপ্টার এক্সপ্রেস নামের একটি প্রতিষ্ঠানের চুক্তিভিত্তিক পাইলট হিসেবে তিনি দাবানল নিয়ন্ত্রণ অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন। দুর্ঘটনার সময় হেলিকপ্টারে তিনি একাই ছিলেন।

দুর্ঘটনার কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, হেলিকপ্টারটি জলাধারে পড়ে যাওয়ার আগে উল্টে যেতে দেখা যায়। তবে কী কারণে এটি নিয়ন্ত্রণ হারায়, তা তদন্তের পরই জানা যাবে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড তদন্তের নেতৃত্ব দেবে।

ডেলের মরদেহ গ্র্যান্ড জাংশনে নেওয়ার সময় স্থানীয় বাসিন্দা ও জরুরি সেবাকর্মীরা সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানান। কলোরাডোর গভর্নর জ্যারেড পলিস তাঁর স্মরণে স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হওয়ার দিন অঙ্গরাজ্যের সরকারি ভবনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।

যে গোল্ড মাউন্টেন দাবানল নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে গিয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে, সেটি জুনের শেষ দিকে শুরু হয়। সোমবার পর্যন্ত আগুন প্রায় ৫৭ বর্গমাইল এলাকা পুড়িয়ে দিয়েছে এবং মাত্র ১১ শতাংশ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। আগুনের কারণে আশপাশের কয়েকটি এলাকায় সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

কলোরাডোসহ যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বর্তমানে একাধিক বড় দাবানল জ্বলছে। দীর্ঘদিনের শুষ্ক আবহাওয়া, উচ্চ তাপমাত্রা এবং দমকা বাতাসের কারণে অনেক জায়গায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খাচ্ছেন দমকলকর্মীরা।

এই দুর্ঘটনার মাধ্যমে চলতি গ্রীষ্মে কলোরাডোতে দাবানল-সংশ্লিষ্ট প্রাণহানির সংখ্যা আরও বেড়েছে। কয়েক সপ্তাহ আগে অঙ্গরাজ্যের আরেকটি দাবানলে তিনজন অগ্নিনির্বাপণকর্মী নিহত হয়েছিলেন।

সূত্র: ডালাস এক্সপ্রেস, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, ১৩ জুলাই ২০২৬