হাল্যান্ডকে পাস না দেওয়ায় সরলথকে প্রাণনাশের হুমকি, নিন্দা জানালেন নরওয়ে কোচ
বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের কাছে হেরে নরওয়ের বিদায়ের পর অনলাইনে ভয়াবহ আক্রমণের শিকার হয়েছেন দেশটির ফরোয়ার্ড আলেকজান্ডার সরলথ। ম্যাচের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে আর্লিং হাল্যান্ডকে পাস না দিয়ে নিজে গোলের চেষ্টা করায় তাঁকে দায়ী করছেন অনেক সমর্থক। এমনকি সরলথকে আত্মহত্যা করতে বলা এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার মতো বার্তাও পাঠানো হয়েছে।
বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের কাছে হেরে নরওয়ের বিদায়ের পর অনলাইনে ভয়াবহ আক্রমণের শিকার হয়েছেন দেশটির ফরোয়ার্ড আলেকজান্ডার সরলথ। ম্যাচের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে আর্লিং হাল্যান্ডকে পাস না দিয়ে নিজে গোলের চেষ্টা করায় তাঁকে দায়ী করছেন অনেক সমর্থক। এমনকি সরলথকে আত্মহত্যা করতে বলা এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার মতো বার্তাও পাঠানো হয়েছে।
শনিবার মায়ামিতে অনুষ্ঠিত কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের কাছে অতিরিক্ত সময়ে ২-১ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় নরওয়ে। ম্যাচের শুরুতে এগিয়ে যাওয়ার পর দীর্ঘ সময় পর্যন্ত জয় ও সেমিফাইনালের আশা ধরে রেখেছিল দলটি।
নরওয়ে ১-০ গোলে এগিয়ে থাকার সময় দ্রুত পাল্টা আক্রমণ থেকে ব্যবধান বাড়ানোর বড় সুযোগ আসে। সরলথ বল নিয়ে ইংল্যান্ডের গোলের দিকে এগিয়ে যান। তাঁর পাশে অনেকটা ফাঁকা জায়গায় ছিলেন হালান্ড। কিন্তু হালান্ডের দিকে বল না বাড়িয়ে সরলথ নিজেই শট নেওয়ার চেষ্টা করেন।
ইংল্যান্ডের ডিফেন্ডাররা তাঁর শট আটকে দেন। সুযোগটি নষ্ট হওয়ার পর মাঠেই হতাশা প্রকাশ করতে দেখা যায় হালান্ডকে। ম্যাচ শেষে ওই মুহূর্তটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
অনেক সমর্থকের মতে, সরলথ হালান্ডকে পাস দিলে নরওয়ের ব্যবধান ২-০ হতে পারত। সেটি হলে ম্যাচের ফলও ভিন্ন হতে পারত বলে তাঁদের ধারণা। পরে ইংল্যান্ড সমতায় ফেরে এবং অতিরিক্ত সময়ে জয়সূচক গোল করে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে।
তবে সরলথ বলেছেন, ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও তিনি হালান্ডের কাছে বল পৌঁছে দিতে পারেননি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ইংল্যান্ডের ডিফেন্ডার জন স্টোনস পাস দেওয়ার জায়গাটি বন্ধ করে দিয়েছিলেন। এ কারণে তিনি নিজেই শট নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
একটি সুযোগ নষ্ট করার কারণে সরলথকে ঘিরে সমালোচনা দ্রুত ব্যক্তিগত আক্রমণে রূপ নেয়। তাঁর সঙ্গী লেনা সেলনেস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাওয়া কয়েকটি ভয়াবহ বার্তার কথা প্রকাশ করেন। সেখানে সরলথকে আত্মহত্যা করতে বলা হয় এবং তাঁর ক্ষতি কামনা করা হয়।
নরওয়ের কোচ স্টালে সোলবাকেন এসব বার্তার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ফুটবল নিয়ে হতাশা বা সমালোচনা থাকতে পারে। কিন্তু একজন খেলোয়াড় ও তাঁর পরিবারকে এমন হুমকি দেওয়া অর্থহীন ও দুঃখজনক।
সোলবাকেন খেলোয়াড়দের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের পর কিছু সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে দূরে থাকার পরামর্শও দিয়েছেন। তাঁর মতে, আবেগপূর্ণ মুহূর্তে অনলাইনে অনেক মানুষ এমন কথা লেখেন, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
সরলথের ওই সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা থাকলেও নরওয়ের পরাজয়ের জন্য শুধু একজন খেলোয়াড়কে দায়ী করা ঠিক নয়। দলটি ম্যাচে আরও কয়েকটি সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নরওয়ের রক্ষণভাগও শেষ পর্যন্ত চাপ সামলাতে ব্যর্থ হয়।
হালান্ডও ম্যাচে স্বাভাবিক ছন্দে ছিলেন না। ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগ তাঁকে গোলের সুযোগ থেকে দূরে রাখে। ক্লান্তি ও পায়ের আঘাতের কারণে অতিরিক্ত সময়ে তাঁকে মাঠ থেকে তুলে নেন নরওয়ের কোচ।
এবারের বিশ্বকাপে নরওয়ের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় ছিলেন হালান্ড। সাত গোল করে দলকে কোয়ার্টার ফাইনালে তুলতে বড় ভূমিকা রাখেন তিনি। দীর্ঘ সময় পর বিশ্বকাপে ফিরে নরওয়ের শেষ আটে পৌঁছানোও দেশটির ফুটবলের জন্য বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হারের পর সব আলোচনা এখন সরলথের নষ্ট করা একটি সুযোগকে ঘিরে। ফুটবলের একটি সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা হওয়া স্বাভাবিক হলেও খেলোয়াড়কে প্রাণনাশ বা আত্মহত্যার হুমকি দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে মনে করছেন নরওয়ের কোচ, খেলোয়াড় এবং ফুটবল–সংশ্লিষ্টরা।
সূত্র: রয়টার্স, গোল ডটকম ও ফক্স স্পোর্টস, ১৩ জুলাই ২০২৬