ইসরায়েলের সামরিক সহায়তা বন্ধের প্রস্তাব ব্যর্থ, পক্ষে ১০৩ ডেমোক্র্যাট
ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা বন্ধ করার একটি প্রস্তাব প্রতিনিধি পরিষদে বড় ব্যবধানে পরাজিত হয়েছে। তবে প্রস্তাবটির পক্ষে ১০৩ জন ডেমোক্র্যাট ভোট দেওয়ায় দলটির ভেতরে ইসরায়েল নীতি নিয়ে বাড়তে থাকা বিভক্তি স্পষ্ট হয়েছে।
ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা বন্ধ করার একটি প্রস্তাব প্রতিনিধি পরিষদে বড় ব্যবধানে পরাজিত হয়েছে। তবে প্রস্তাবটির পক্ষে ১০৩ জন ডেমোক্র্যাট ভোট দেওয়ায় দলটির ভেতরে ইসরায়েল নীতি নিয়ে বাড়তে থাকা বিভক্তি স্পষ্ট হয়েছে।
বুধবার অনুষ্ঠিত ভোটে প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট পড়ে ১০৪টি এবং বিপক্ষে ৩১৪টি। আরও ১০ জন আইনপ্রণেতা সরাসরি পক্ষে বা বিপক্ষে ভোট না দিয়ে ‘প্রেজেন্ট’ ভোট দেন। প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দেওয়া ১০৪ জনের মধ্যে ১০৩ জন ছিলেন ডেমোক্র্যাট এবং একজন রিপাবলিকান।
কেন্টাকির রিপাবলিকান প্রতিনিধি থমাস ম্যাসি প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন। এটি ২০২৭ সালের পররাষ্ট্র দপ্তরের ব্যয় বিল থেকে ইসরায়েলের জন্য নির্ধারিত প্রায় ৩৩০ কোটি ডলারের নিরাপত্তা সহায়তা বাদ দেওয়ার উদ্দেশ্যে আনা হয়েছিল। ম্যাসির বক্তব্য, বিদেশে সহায়তা দেওয়ার বদলে এই অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ প্রয়োজন মেটাতে ব্যবহার করা উচিত।
ডেমোক্র্যাট দলের শীর্ষ নেতাদের মধ্যেও ভোটটি নিয়ে মতভেদ দেখা যায়। প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফরিস প্রস্তাবটির বিরোধিতা করেন। তাঁর মতে, প্রস্তাবটি এতটাই বিস্তৃত ছিল যে এটি সামরিক সহায়তার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা ও দূতাবাসের কিছু কার্যক্রমেও প্রভাব ফেলতে পারত। তবে দলের হুইপ ক্যাথরিন ক্লার্ক এবং সাবেক স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দেন।
প্রস্তাবটির সমর্থক ডেমোক্র্যাটরা গাজায় বেসামরিক মানুষের মৃত্যু এবং ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান সহায়তা নীতি পরিবর্তনের দাবি করেন। অন্যদিকে বিরোধীরা বলেন, ইসরায়েলের নিরাপত্তার জন্য মার্কিন সহায়তা প্রয়োজন এবং প্রস্তাবটি সামরিক ও বেসামরিক সহায়তার মধ্যে যথেষ্ট পার্থক্য করেনি।
প্রস্তাবটি পরাজিত হওয়ায় ইসরায়েলকে দেওয়া মার্কিন সহায়তায় এখনই কোনো পরিবর্তন আসছে না। তবে এতসংখ্যক ডেমোক্র্যাটের সহায়তা বন্ধের পক্ষে ভোট দেওয়াকে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের ইসরায়েল নীতিতে বড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সূত্র: সিএনএন, রয়টার্স ও এপি, ১৫ জুলাই ২০২৬