শিশু নির্যাতনের ছবি নিয়ে আইক্লাউডের বিরুদ্ধে মামলা খারিজ
যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালত আইক্লাউডে শিশু যৌন নির্যাতনের ছবি (CSAM) ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে অ্যাপলের বিরুদ্ধে করা একটি গণমামলা (ক্লাস অ্যাকশন) খারিজ করে দিয়েছে। আদালত বলেছে, ব্যবহারকারীদের আপলোড করা কনটেন্টের জন্য অ্যাপলকে দায়ী করা যায় না, কারণ এ ক্ষেত্রে কোম্পানিটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রচলিত আইনের সুরক্ষা পায়।
যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালত আইক্লাউডে শিশু যৌন নির্যাতনের ছবি (CSAM) ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে অ্যাপলের বিরুদ্ধে করা একটি গণমামলা (ক্লাস অ্যাকশন) খারিজ করে দিয়েছে। আদালত বলেছে, ব্যবহারকারীদের আপলোড করা কনটেন্টের জন্য অ্যাপলকে দায়ী করা যায় না, কারণ এ ক্ষেত্রে কোম্পানিটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রচলিত আইনের সুরক্ষা পায়।
মামলাটি করেছিলেন ‘অ্যামি’ ও ‘জেসিকা’ ছদ্মনামে পরিচিত দুই নারী। তারা অভিযোগ করেন, শৈশবে তাদের ওপর হওয়া যৌন নির্যাতনের ছবি বহু বছর ধরে আইক্লাউডে সংরক্ষণ ও ছড়িয়ে পড়েছে। তাদের পক্ষ থেকে প্রায় ২ হাজার ৬৮০ জন ভুক্তভোগীর প্রতিনিধিত্ব করে প্রায় ৩২ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছিল।
ক্যালিফোর্নিয়ার সান হোসের মার্কিন জেলা আদালতের বিচারক নোয়েল ওয়াইজ রায়ে বলেন, মামলাটি মূলত অ্যাপলকে ব্যবহারকারীদের তৈরি ও আপলোড করা কনটেন্ট সরাতে ব্যর্থ হওয়ার জন্য দায়ী করতে চেয়েছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের সেকশন ২৩০ আইনের আওতায় এ ধরনের দাবির বিরুদ্ধে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণভাবে আইনি সুরক্ষা পেয়ে থাকে।
রায়ে আরও বলা হয়, বর্তমানে কোনো ফেডারেল আইন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের ক্লাউড সেবায় শিশু যৌন নির্যাতনের ছবি শনাক্ত বা রিপোর্ট করার জন্য নতুন প্রযুক্তি তৈরি কিংবা বাধ্যতামূলকভাবে ব্যবহার করতে বলে না। বিচারক মন্তব্য করেন, এ ধরনের পরিবর্তন আনতে হলে কংগ্রেসকেই আইন করতে হবে।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছিল, অ্যাপল ২০২১ সালে NeuralHash নামে একটি প্রযুক্তি ব্যবহার করে এ ধরনের ছবি শনাক্ত করার পরিকল্পনা ঘোষণা করলেও পরে গোপনীয়তা নিয়ে সমালোচনার মুখে সেটি বাতিল করে। এর পরিবর্তে আইক্লাউডে শক্তিশালী এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন চালু করায় এসব অবৈধ ছবি শনাক্ত করা আরও কঠিন হয়ে পড়ে বলে বাদীপক্ষ দাবি করে। অন্যদিকে অ্যাপল আদালতে জানায়, ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার ভারসাম্য বজায় রেখে তারা শিশু সুরক্ষায় অন্য পদ্ধতি ব্যবহার করছে।
আদালত মামলাটি স্থায়ীভাবে খারিজ করে দিয়েছে, অর্থাৎ একই অভিযোগে এই মামলাটি আবার নতুন করে করা যাবে না। তবে বাদীপক্ষ জানিয়েছে, তারা রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে কি না, তা বিবেচনা করছে। এ ছাড়া ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলের করা একই ধরনের আরেকটি মামলা এখনও চলমান রয়েছে।