এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে ১৩ জেলায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি
বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া, প্রশ্নপত্রে ভুল এবং শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদে ঢাকাসহ অন্তত ১৩ জেলায় বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া, পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে ভুল এবং প্রশ্নের মান নিয়ে ক্ষোভ জানিয়ে ঢাকাসহ দেশের অন্তত ১৩ জেলায় বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। বিভিন্ন স্থানে তাঁরা সড়ক ও মহাসড়ক অবরোধের পাশাপাশি শিক্ষা বোর্ড ঘেরাও করেন।
মঙ্গলবার সকাল থেকে ঢাকার সায়েন্স ল্যাব, মিরপুরের ইসিবি চত্বর ও উত্তরায় শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করেন। সড়ক অবরোধের কারণে এসব এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে তীব্র যানজট তৈরি হয়। পরে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সামনে গিয়ে বিক্ষোভ করেন।
সন্ধ্যায় শিক্ষার্থীরা জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে অবস্থান নেন। একপর্যায়ে তাঁরা সংসদ ভবনের ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করলে পুলিশ লাঠিপেটা করে তাঁদের সরিয়ে দেয়। তবে কিছুক্ষণ পর শিক্ষার্থীরা আবার জড়ো হয়ে সড়ক অবরোধ করেন।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, বৈরী আবহাওয়া ও জলাবদ্ধতার কারণে অনেক পরীক্ষার্থী সময়মতো কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেননি। তাঁদের দাবি, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পরীক্ষা স্থগিত করতে হবে। যাঁরা পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি, তাঁদের জন্য আবার পরীক্ষার ব্যবস্থা করার দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা।
পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে ভুল থাকার অভিযোগও তুলেছেন শিক্ষার্থীরা। তবে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, ভুল থাকা দুটি প্রশ্নের জন্য পরীক্ষার্থীরা পূর্ণ নম্বর পাবেন। যেসব কেন্দ্রে সমস্যা হয়েছে, প্রয়োজন হলে সেসব কেন্দ্রে আবার পরীক্ষা নেওয়ার কথাও বলেছেন তিনি।
শিক্ষার্থীদের নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর একটি বক্তব্য ঘিরেও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, তিনি পরীক্ষার্থীদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন। এ কারণে তাঁর পদত্যাগসহ তিন দফা দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
শিক্ষামন্ত্রী পরে জাতীয় সংসদে তাঁর বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, কাউকে কষ্ট দেওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি মন্তব্য করেননি। তাঁর ব্যক্তিগত মন্তব্যে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে তিনি দুঃখিত।
ঢাকার বাইরে চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে শিক্ষা বোর্ড ঘেরাও করেন শিক্ষার্থীরা। বরিশাল ও টাঙ্গাইলে মহাসড়ক অবরোধ করা হয়। এ ছাড়া সিলেট, ময়মনসিংহ, রংপুর, কুমিল্লা, বগুড়া, কুড়িগ্রাম, সুনামগঞ্জ ও নওগাঁসহ বিভিন্ন জেলায় বিক্ষোভ হয়েছে।
শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, নির্ধারিত পরীক্ষা স্থগিত করা না হলে বুধবার বেলা তিনটায় রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দিকে লংমার্চ করবেন তাঁরা।
সূত্র: প্রথম আলো, ১৪ জুলাই ২০২৬