কাতারের দেওয়া উড়োজাহাজের তথ্য ফাঁস, হোয়াইট হাউস কর্মকর্তাদের ফোন চাইলেন তদন্তকারীরা

কাতারের দেওয়া নতুন এয়ার ফোর্স ওয়ানের নিরাপত্তা নিয়ে তথ্য ফাঁসের ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে হোয়াইট হাউস। কয়েকজন কর্মকর্তাকে তাঁদের মোবাইল ফোন তদন্তকারীদের কাছে দিতে বলা হয়েছে।

Jul 15, 2026 - 20:28
কাতারের দেওয়া উড়োজাহাজের তথ্য ফাঁস, হোয়াইট হাউস কর্মকর্তাদের ফোন চাইলেন তদন্তকারীরা
হোয়াইট হাউস

কাতারের দেওয়া একটি উড়োজাহাজের নিরাপত্তা নিয়ে সংবাদমাধ্যমে তথ্য প্রকাশের পর হোয়াইট হাউসের ভেতরে তথ্য ফাঁসকারীকে খুঁজতে বড় ধরনের তদন্ত শুরু হয়েছে। সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ সুসি ওয়াইলস এবং এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল সরাসরি এই তদন্তের কাজে যুক্ত হয়েছেন।

তদন্তের অংশ হিসেবে হোয়াইট হাউসের কয়েকজন কর্মকর্তাকে তাঁদের মোবাইল ফোন তদন্তকারীদের কাছে দিতে বলা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বিদেশ সফরে যাঁরা তাঁর সঙ্গে ছিলেন অথবা সফরের পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাঁদের কাছ থেকেও তথ্য চাওয়া হয়েছে। তবে ফোন দিতে বলা ব্যক্তিদের সবাই এতে রাজি হননি বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

কাতারের দেওয়া প্রায় ৪০ কোটি ডলার মূল্যের উড়োজাহাজটি নতুন এয়ার ফোর্স ওয়ান হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। তবে নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, দ্রুত পরিবর্তন করে উড়োজাহাজটি প্রেসিডেন্টের ব্যবহারের উপযোগী করা হলেও এটি পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানের মতো পুরোপুরি নিরাপদ নয়। বিশেষ করে এর প্রতিরক্ষাব্যবস্থা নিয়ে প্রশাসনের ভেতরে উদ্বেগ ছিল।

সম্প্রতি ন্যাটো সম্মেলনের সফরে ট্রাম্প নতুন উড়োজাহাজটি ব্যবহার করেছিলেন। তবে দেশে ফেরার সময় তিনি পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ান ব্যবহার করেন। ট্রাম্প বলেছিলেন, নতুন উড়োজাহাজটি ইংল্যান্ডের একটি সামরিক ঘাঁটিতে পাঠানো হয়েছে, যাতে সেখানে থাকা মার্কিন সেনারা সেটি দেখতে পারেন। তবে সংবাদ প্রতিবেদনে বলা হয়, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণেই উড়োজাহাজটি পরিবর্তন করা হয়েছিল।

নিরাপত্তা উদ্বেগের তথ্য সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ায় ট্রাম্প ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন বলে সিএনএন জানিয়েছে। কাশ প্যাটেলের শিকাগো সফর বাতিল করে তাঁকে ওয়াশিংটনে ফিরে তদন্তের দায়িত্ব নিতে বলা হয়। একই ঘটনায় নিউইয়র্ক টাইমসের কয়েকজন সাংবাদিককে আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য সমনও পাঠিয়েছে বিচার বিভাগ।

নিউইয়র্ক টাইমস বলেছে, সাংবাদিকদের গোপন সূত্র প্রকাশে বাধ্য করার এই চেষ্টা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য হুমকি। অন্যদিকে বিচার বিভাগের দাবি, সাংবাদিকদের শাস্তি দেওয়া তাদের উদ্দেশ্য নয়। জাতীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত গোপন তথ্য কারা ফাঁস করেছেন, সেটিই তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

সূত্র: সিএনএন, এপি ও রয়টার্স, ১৫ জুলাই ২০২৬