বিশ্বকাপে আবারও আর্জেন্টিনার মুখোমুখি ইংল্যান্ড, এবার কি ফাইনালে উঠবে থ্রি লায়ন্স?

বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম আলোচিত প্রতিদ্বন্দ্বিতা আবারও ফিরছে বিশ্বকাপের মঞ্চে। ২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড। আগামী ১৫ জুলাই বুধবার আটলান্টায় অনুষ্ঠিত হবে ম্যাচটি। জয়ী দল ১৯ জুলাইয়ের ফাইনালে ফ্রান্স অথবা স্পেনের বিপক্ষে খেলবে।

Jul 12, 2026 - 03:19
বিশ্বকাপে আবারও আর্জেন্টিনার মুখোমুখি ইংল্যান্ড, এবার কি ফাইনালে উঠবে থ্রি লায়ন্স?
ছবি: ফিফা

বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম আলোচিত প্রতিদ্বন্দ্বিতা আবারও ফিরছে বিশ্বকাপের মঞ্চে। ২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড। আগামী ১৫ জুলাই বুধবার আটলান্টায় অনুষ্ঠিত হবে ম্যাচটি। জয়ী দল ১৯ জুলাইয়ের ফাইনালে ফ্রান্স অথবা স্পেনের বিপক্ষে খেলবে।

কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়েকে ২-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে ইংল্যান্ড। ম্যাচে প্রথমে পিছিয়ে পড়লেও জুড বেলিংহামের দুই গোলে ঘুরে দাঁড়ায় থ্রি লায়ন্স। নির্ধারিত সময়ে সমতা থাকার পর অতিরিক্ত সময়ে জয়সূচক গোল করেন বেলিংহাম।

তবে জয় পেলেও ইংল্যান্ডের পারফরম্যান্স পুরোপুরি সন্তুষ্ট করতে পারেনি কোচ টমাস টুখেলকে। তার মতে, দলটি ম্যাচে বেশ কিছু ভুল করেছে এবং বল দখলে রেখেও অনেক সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি। আর্জেন্টিনার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে এসব ভুল করলে বড় মূল্য দিতে হতে পারে।

অন্যদিকে সুইজারল্যান্ডকে অতিরিক্ত সময়ে ৩-১ গোলে হারিয়ে শেষ চারে উঠেছে আর্জেন্টিনা। অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর সুইজারল্যান্ড সমতা ফেরায়। পরে অতিরিক্ত সময়ে হুলিয়ান আলভারেজ ও লাউতারো মার্তিনেজ গোল করে আর্জেন্টিনার জয় নিশ্চিত করেন।

আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় শক্তি এখনো লিওনেল মেসি। ৩৯ বছর বয়সেও তিনি গোল করা ও সুযোগ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। তার পাশাপাশি আলভারেজ, মার্তিনেজ ও ম্যাক অ্যালিস্টারও ইংল্যান্ডের রক্ষণের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারেন।

ইংল্যান্ডও আক্রমণে পিছিয়ে নেই। অধিনায়ক হ্যারি কেইন এবং জুড বেলিংহাম দুজনই এবারের বিশ্বকাপে ছয়টি করে গোল করেছেন। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে গোল করার ক্ষমতার কারণে বেলিংহাম ইংল্যান্ডের অন্যতম প্রধান ভরসা হয়ে উঠেছেন।

ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার ম্যাচ মানেই পুরোনো অনেক স্মৃতি ফিরে আসা। ১৯৬৬ বিশ্বকাপের বিতর্কিত কোয়ার্টার ফাইনাল, ১৯৮৬ সালে দিয়েগো ম্যারাডোনার 'হ্যান্ড অব গড' গোল এবং একই ম্যাচে তার বিখ্যাত একক গোল এই প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে আরও তীব্র করে তুলেছিল।

১৯৯৮ বিশ্বকাপে ডেভিড বেকহামের লাল কার্ড এবং টাইব্রেকারে ইংল্যান্ডের বিদায়ও দুই দেশের ফুটবল ইতিহাসের আলোচিত ঘটনা। পরে ২০০২ বিশ্বকাপে বেকহামের পেনাল্টি গোলে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে পুরোনো হারের কিছুটা প্রতিশোধ নিয়েছিল ইংল্যান্ড।

দুই দল সর্বশেষ মুখোমুখি হয়েছিল ২০০৫ সালের একটি প্রীতি ম্যাচে। সেই ম্যাচে ইংল্যান্ড ৩-২ গোলে জয় পায়। অর্থাৎ দুই দশকেরও বেশি সময় পর আবারও মুখোমুখি হচ্ছে দুই দেশ, আর এবার ম্যাচটির গুরুত্ব অনেক বেশি।

ইংল্যান্ড ১৯৬৬ সালের পর আর বিশ্বকাপ জিততে পারেনি। আর্জেন্টিনাকে হারাতে পারলে ৬০ বছর পর বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠবে থ্রি লায়ন্স। অন্যদিকে আর্জেন্টিনা টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের সুযোগ ধরে রাখতে চাইবে।

কাগজে-কলমে দুই দলই শক্তিশালী। আর্জেন্টিনার রয়েছে অভিজ্ঞতা ও মেসির নেতৃত্ব। ইংল্যান্ডের রয়েছে তারুণ্য, গতি এবং বেলিংহাম-কেইনের মতো গোলদাতা। শেষ পর্যন্ত চাপ সামলে যে দল নিজেদের সুযোগ ভালোভাবে কাজে লাগাতে পারবে, তারাই ফাইনালের টিকিট পাবে।

সূত্র: বিবিসি স্পোর্ট, রয়টার্স, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস